কলমাকান্দা প্রতিনিধি:
আসন্ন জাতীয় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ১৫৬ নেত্রকোনা ১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনে দলবদলের রাজনীতির জন্য আলোচিত- সমালোচিত গোলাম রব্বানী এবার বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মনোনয়ন পেয়ে রিকশা প্রতীকের প্রার্থী হয়েছেন।
আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির পর এ নিয়ে চতুর্থ দলে যোগ দিলেন তিনি। এ কারণে স্থানীয় রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
তার বিরোদদ্ধে নারী নির্যাতন ও ভূমি আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় সব নির্বাচনের আগেই গোলাম রব্বানী নতুন দলে যোগ দেন এবং যেখান থেকে মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে সেখানেই অবস্থান নেন। ফলে তিনি ক্রমশ সাধারণ ভোটারদের কাছে অগ্রহণযোগ্য হয়ে পড়ছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ছাত্রলীগের রাজনীতি দিয়ে রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু করেন গোলাম রব্বানী। ১৯৮৬ সালে তিনি কলমাকান্দা উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৮৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট কেটে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য হন।
২০০৬ সালে বিএনপিতে যোগদান করে তিনি বিএনপির মনোনয়ন পান। তবে ওই নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়ায় তার রাজনৈতিক অবস্থানও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ নেতা ওবায়দুল কাদেরের ঘনিষ্ঠ পরিচয় ব্যবহার করে কলমাকান্দা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন বলেও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।
২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির মনোনয়ন চান। কিন্তু দল মনোনয়ন না দিলে পুনরায় আনুস্টানিকভাবে জাতীয় পার্টিতে পূনরায় যোগ দেন। ২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচনে লাঙ্গল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জামানত হারান। চলতি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি খেলাফত মজলিস থেকে রিকশা প্রতীকে মনোনীত হয়েছেন।
এই মনোনয়ন নিয়ে স্থানীয় আলেম ওলামাদের একাংশের মধ্যেও অসন্তোষ ও তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্বৈরাচারের দোষর জাতীয় পার্টির এ-ই নেতা কে জনগন মেনে নিচ্ছে না।
রংছাতি ইউনিয়নের সাইফুল ইসলাম বলেন, গোলাম রব্বানী আমাদের জমি দখলের জন্য বিভিন্ন ভাবে চাপ প্রয়োগ করে আসছে। আওয়ামীলীগের আমলে তিনি জাতীয় পার্টি করার সুবাদে আমাদের জমি বাড়ি দখলের জন্য হামলা চালিয়েছিল।
স্থানীয় আলেম হাফেজ দেলোয়ার হোসেন বলেন, একসময় আমি খেলাফত মজলিসে ছিলাম। গোলাম রব্বানীর মত পল্টিবাজ লোক যখন খেলাফতের মনোনয়ন পেয়েছে তখন আমি ও-ই দল থেকে মুখ পিরিয়ে নিয়েছি।
জাতীয় পার্টির আরেক নেতা ফরিদ মিয়া বলেন, গোলাম রব্বানী আসলেই পল্টিবাজ নেতা সে আজ এ-ই দলে কাল অন্য দলে। এখন আবার আলেমদের উপর চেপে বসেছে।
স্থানীয় কিছু মানুষের দাবি, সংসদ সদস্য থাকাকালীন ‘দেছার ঘাগ্রা’ নামের এক উপজাতি নারীর গোপনাঙ্গ কেটে ফেলার সঙ্গে রব্বানীর নাম জড়ায়। এ ঘটনার পর থেকে ওই সম্প্রদায়ের মধ্যে এখনো ক্ষোভ রয়ে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
দেছার ঘাগ্রার পরিবারের সদস্য মর্জিনা ঘাগ্রা অভিযোগ করে বলেন, সে একজন বাজে লোক , আমরা তাকে দেখতে পারি না আমার মাকে কুপ্রস্তাব দিত। তার কথায় সারা না দেওয়ায় মায়ের গোপনাঙ্গে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত জকম করেছিল।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গোলাম রব্বানী বলেন,
আমি ওরজিনিয়ালি জাতীয় পার্টির লোক। জাতীয় পার্টি থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলাম, এমপি হয়েছিলাম। উপজাতিদের সাথে ছোট থেকে বড় হয়েছি তাদের সাথে এখন আমার ভালো সম্পর্ক রয়েছে। ভূমি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে জায়গাটা আমার কিন্তু সাইফুল দাবী করছে এটা তাদের এ নিয়ে আলোচনা চলছে। ওবায়দুল কাদেরের প্রসঙ্গ নিয়ে বললেন উনি পড়াশোনার সুবাদে আমার পরিচিত ছিলেন। তবে পরকালের কথা চিন্তা করে এখন খেলাফত মজলিসে আছি। আলেম-ওলামাদের সাথে থাকতে চাই।
