মদন প্রতিনিধি:
নেত্রকোনার মদনে অভিভাবকদের লাঞ্ছিত করে এসএসসি পরিক্ষার ফরম ফিলাপের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়েছে।
ঘটনাটি প্রমাণিত হওয়ার ২০ দিন অতিবাহিত হলেও অভিযুক্ত দুই শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কোন ধরণের ব্যবস্থা নেয়নি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস। এতে করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্ত দুই শিক্ষক হলেন নেত্রকোনার মদন উপজেলার মাঘান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম খোকন ও সহকারী শিক্ষক আব্দুল গণি।
লিখিত অভিযোগ ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনার মদন উপজেলার মাঘান উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০২৬ সালের এসএসসি পরিক্ষার্থীদের ফরম ফিলাপে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৮/৯ হাজার টাকা আদায় করা হয়। অতিরিক্ত টাকা দিতে অপারকতা প্রকাশ করায় অভিভাবকদের লাঞ্ছিত করে টাকা আদায় করা হয়। এ ঘটনায় ঝুমন মিয়া নামের এক শিক্ষার্থী অভিভাবক গত ১৮ জানুয়ারি মদন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
অভিযোগের পরদিনেই ইউএনওর নির্দেশে বিদ্যালয়ে যান একাডেমিক সুপারভাইজার জোসনা বেগম। ওই দিন ঘটনার সত্যতা পেয়ে সরকার নির্ধারিত ফিঃ ২ হাজার ৩১৫ টাকা রেখে কিছু শিক্ষার্থীর বাকী টাকা ফেরত দেন। বাকী শিক্ষার্থীদের টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন। ওই দিনেই বিদ্যালয়ের অভিযুক্ত দুই শিক্ষককে শোকজ করা হয়। শোকজে ৩ কর্মদিবসের মধ্যে জবাব দেওয়ার জন্য বলা হয়। সংশ্লিষ্ট বলছে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। কিন্তু ২০ দিনেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় শিক্ষার্থী-অভিভাবক মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার জোসনা বেগম জানান, অভিযোগ পেয়ে বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছি এবং অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সত্যতা পেয়েছি। যে সকল শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিল তাদের টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল বারী জানান, ”অতিরিক্ত টাকা নেওয়ায় দুই শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে। তারা শোকজের জবাব দিয়েছে। জবাবেই ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে ২০ দিন অতিবাহিত হলেও কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেদবতী মিস্ত্রী জানান, ”ফরম ফিলাপে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়ে সত্যতা পাওয়া গেলে শিক্ষা অফিস অভিযুক্তদের বিভাগীয় মামলা করবে।”
