নিজাম তালুকদার : নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে জমিতে সেচের ড্রেন নির্মাণকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বে প্রতিপক্ষের বসতবাড়ি ও দোকানে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও নগদ টাকার পাশাপাশি ১৭ গরু লুটের ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে অব্যাহত হুমকিতে ঘটনার পর থেকে ভয়ে পরিবার পরিজনসহ এলাকা ছাড়া ভুক্তভোগীরা।
উপজেলার কয়রাপাড়া গ্রামের গত ২৮ জানুয়ারি এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পরদিন ভুক্তভোগী আব্দুল খালেক বাদী হয়ে ১৯ জনকে আসামি করে মোহনগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কয়রাপাড়া গ্রামের আব্দুল খালেকের একটি কৃষি জমির উপর দিয়ে সেচের পানি চলাচলের একাধিক ড্রেন নির্মাণ করেন প্রতিবেশী মোতালিব ও তার লোকজন। এতে বাধা দেন আব্দুল খালেক। এ নিয়ে গত ২৮ জানুয়ারি বিকালে মোতালেব ও আব্দুল খালেকের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়।
এসময় মোতালিব কোদালের কুপে আহত হন। এর কিছু সময় পর মোতালিবের লোকজন রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আব্দুল খালেকের বাড়িতে হামলা চালিয়ে কয়েকটি বসতঘরের টিন কুপিয়ে কেটে পেলে।
আসবাবপত্রসহ ঘরে থাকা কয়েকটি ফ্রিজ ভাঙচুর করে। বাড়ির উঠানে থাকা একটি ট্রাক্টরের মেশিন ও অপর একটি সেলু মেশিন ভাঙচুর করে তারা। এদিকে বাড়ির সামনে থাকা দোকানে ঢুকে জিনিসপত্র তছনছ করে, ফ্রিজ ভাঙচুর করে ও নগদ দুই লাখ টাকা লুট করে। শেষে খামারে থাকা ১৭টি গরু লুটে নিয়ে যায় মোতালিবের লোকজন। এদিকে আহত মোতালিবকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
অভিযোগে আরও জানা গেছে , লুটে নেওয়া ১৭ টি গরুর দাম প্রায় ১৪ লাখ টাকা। আর হামলায় ভাঙচুরের ফলে ৭ লাখ টাকা ক্ষয়ক্ষতি হয়।
ঘটনার পরদিন মোতালিবের ছোট ভাই হালিম মিয়া বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। এতে আব্দুল খালেক, আলেক ও কালু শেখসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে আব্দুল খালেক বলেন, ১৭টি গরু লুটে নিয়ে মোতালিবের লোকজন বিক্রি করে দেয়। পুলিশের সহায়তায় এ পর্যন্ত ৭টি গরু উদ্ধার করা হয়েছে। বাকিগুলোর হদিস নেই। প্রাণনাশের হুমকির ভয়ে বাড়ি ঘরে থাকতে পারছি না। থানায় অভিযোগ দিয়েছিলাম সেটিও আমলে নেয়নি পুলিশ।
সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) ফখরুল আলম বলেন, পানির চলাচলের ড্রেন নিয়ে অনেক বড় ঘটনা ঘটে গেছে। মোতালিব আহত হয়ে হাসাপাতালে ভর্তি রয়েছে। অন্যদিকে আব্দুল খালেকদের অনেকগুলো গরু লুটে নেওয়া হয়েছে। তাদের বাড়ি ঘরে ভাঙচুর করে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। পাশ্ববর্তী উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ৭টি গরু স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি গরুর খবর এখনো পাওয়া যায়নি। এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটুক।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহনগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জসিম উদ্দিন আজ সোমবার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার পর আহত মোতালিবের ভাই হালিম বাদী হয়ে আব্দুল খালেকসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন। ইতিমধ্যে লুটের ৭টি গরু উদ্ধার করে দেওয়া হয়েছে। বাকিগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। এদিকে এই ঘটনায় আব্দুল খালেক বাদী হয়ে ভাঙচুর ও গরু লুটের বিষয়ে থানায় অভিযোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে তিনি আর যোগাযোগ করেননি। প্রতিপক্ষকে জখমের মামলায় আব্দুল খালেকসহ অন্য আসামিরা পলাতক রয়েছেন।
মোহনগঞ্জ থানার ওসি হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, গরু লুট হয়নি। মারামারির সময় ছুটে এদিক সেদিক চলে গিয়েছিল। ৭ টি গরু উদ্ধার করে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
