বাণী
আজ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। ২৬ মার্চ বাঙ্গালি জাতির এক গৌরবময় দিন। জাতির ইতিহাসের এক মাহেন্দ্রক্ষণ। পাকিস্তানের শোষণ থেকে মুক্ত হয়ে “বাংলাদেশ” নামক স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের আত্মপ্রকাশ করার দিন। এই দিবসের প্রাক্কালে আমি গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লক্ষ বীর শহিদ এবং দুই লক্ষ বীরাঙ্গনা মা ও বোনকে।
বাংলাদেশের ইতিহাস সকল শোষণ, বঞ্চনার নাগপাশ ছিড়ে সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে বিজয় ছিনিয়ে আনার ইতিহাস। সকল অন্যায়, অবিচার, বঞ্চনা, অধিকারহীনতা, সাম্প্রদায়িকতা, বৈষম্য ও স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করার সুমহান মহিমায় ভাস্বর আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ইতিহাস। বাঙ্গালির মুক্তি সংগ্রামের লক্ষ্য ছিলো রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্জনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জন। ‘৫২ এর ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার যে বীজ উপ্ত হয়েছিল দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রাম ও নানা, চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ তা পূর্ণতা পায় এবং পাকহানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় চূড়ান্ত বিজয়।
মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সাথে নেত্রকোণা জেলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সারা দেশের ন্যায় নেত্রকোণার মানুষও স্বাধীনতা অর্জনের জন্য সশস্ত্র যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিল, জীবন বাজি রেখে আত্মাহুতি দিয়েছিল। আমি গভীর কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করছি নেত্রকোণা জেলায় মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের যাদের অপরিসীম আত্মত্যাগ ও মরণপণ সংগ্রামের ফলে নেত্রকোণা জেলা পাকহানাদার বাহিনী মুক্ত হয়েছে।
আজকের মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে নেত্রকোণাবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির অগ্রগতি ও উন্নয়নের ধারাকে আরও বেগবান করতে জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক সহনশীলতা এবং দেশপ্রেমের চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করতে হবে।
আসুন, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের তাৎপর্য থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করি। একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও মর্যাদাশীল নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে নেত্রকোণাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সবাই একযোগে কাজ করি। দেশমাতৃকার সেবায় নিজেদের উৎসর্গ করি। আপনাদের সবার জীবন কল্যাণ হোক।
তারিখ: ২৬ মার্চ, ২০২৬
খন্দকার মুশফিকুর রহমান
জেলা প্রশাসক
নেত্রকোণা।
