কেন্দুয়া প্রতিনিধি:
নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় গড়াডোবা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনকে হুমকি, মানহানিকর অপপ্রচার ও চাঁদাবাজির অভিযোগে এক সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্যসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে।
বুধবার (১৬ জুলাই) কেন্দুয়া থানায়
২৫(২) (১)/২৭(২)(১) সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫। অর্থাৎ ইচ্ছাকৃত ভাবে ডিজিটাল মাধ্যম, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য প্রচার ও প্রকাশ করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা, ব্লাকমেইলিং করা এবং সহায়তা করার অপরাধে মামলাটি রুজু করা হয়েছে।
অভিযুক্তরা হলেন নেত্রকোনা সদর উপজেলার কেগাতি ইউপির নাড়িয়াপাড়া মহি উদ্দিন তালুকদার (৪৫), আটপাড়া উপজেলার স্বমুশিয়া ইউপির যাদবপুর গ্রামের আমিনুল হকের কন্যা তানজিলা শাহ রুবি (৩৫) এবং গড়াডোবা ইউপি বাশাটি গ্রামের ফারুক মিয়ার স্ত্রী ও ইউপি সদস্য মনজুরা আক্তার (৪০)।
অভিযোগে বলা হয়, গত ২৯ মে ২০২৫ তারিখ সকাল ১১টায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কক্ষে সহকারী কমিশনার (ভূমি), কেন্দুয়ার উপস্থিতিতে একটি তদন্ত চলাকালে স্থানীয় এক ব্যক্তি ও সাংবাদিক পরিচয়ধারী মহি উদ্দিন তালুকদার তদন্তে বাধা সৃষ্টি করেন, অনুমতি ছাড়াই ভিডিও ধারণ করতে থাকেন এবং তদন্ত কাজ বন্ধ করার হুমকি দেন। পরবর্তীতে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর বিভিন্ন পোস্ট দেন এবং পরিষদ সদস্যদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য প্রচার করেন।
এছাড়া অভিযোগে আরও বলা হয়, পরিষদে কাজের সুবিধা নিতে ও বিভিন্ন বিষয়ে আপোষমূলক চাপ প্রয়োগের জন্য অভিযুক্ত মহি উদ্দিন তালুকদারকে বহুবার ডেকে আনা হয় তানজিলা শাহ রুবি ও মনজুরা আক্তার নামের দুই নারীর সহযোগিতায়। তারা মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে পরিষদে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন এবং টাকা-পয়সা দাবি করেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ১০ জুলাই ২০২৫ তারিখে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের উপস্থিতিতে তদন্ত চলাকালে বিবাদীরা মোবাইল ফোনে বাইরে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে অফিসের শৃঙ্খলা নষ্টের চেষ্টা করেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে পুলিশ মোবাইল ফোন সাময়িকভাবে জব্দ করে এবং পরে ফেরত দেয়।
পরবর্তীতে ১৩ জুলাই ২০২৫ তারিখে অভিযুক্ত মহি উদ্দিন তালুকদার তার ফেসবুক আইডি থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মানহানিকর পোস্ট দেন এবং অশালীন মন্তব্য প্রচার করেন। তানজিলা শাহ রুবিও লাইভে এসে মিথ্যা অপপ্রচার চালান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, “পরিষদের স্বাভাবিক কাজকর্মে বাধা ও ব্যক্তিগত মানহানি ঘটানোর কারণে আমি আইনগত আশ্রয় নিয়েছি।”
মামলা দায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কেন্দুয়া থানার ওসি মিজানুর রহমান।
