নেত্রকোণা প্রতিনিধি:
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু ধর্মালম্বী নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেত্রকোণা জেলা শাখা।
সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে আটটায় জেলা জামায়াত কার্যালয়ে আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের সাবেক আমীর ও নেত্রকোণা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা এনামুল হক।
তিনি বলেন, “মহাগ্রন্থ আল-কুরআন শুধু মুসলমানদের জন্য নয়, এটি সমগ্র মানবজাতির কল্যাণের গ্রন্থ। কুরআনের মূলনীতিতে সমাজ পরিচালিত হলে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সবাই সমানভাবে অধিকার ভোগ করতে পারবে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইসলাম অন্য ধর্মকে সম্মান করার শিক্ষা দেয় এবং জামায়াত সবসময় ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের ব্যাপারে আন্তরিক ছিল।
জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মাহবুবুর রহমান এর সঞ্চালনায় ও আমীর মাওলানা ছাদেক আহমাদ হারিছ এর সভাপতিত্বে এসময় হিন্দু নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ বলেন, এবছর জেলায় মোট ৫১৩টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে নেত্রকোণা পৌরসভায় ৫৮টি ও সদরে ৫৬টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। তারা জানান, প্রতিটি পূজামণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীসহ নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে এবং জেলা প্রশাসনও পূর্ণ সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছে। পাশাপাশি তারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে জামায়াতের সহযোগিতা কামনা করেন।
হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন—বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ নেত্রকোণা জেলা শাখার সভাপতি জ্ঞানেশ চন্দ্র সরকার, সহসভাপতি আলোক সরকার, সাধারণ সম্পাদক লিটন চন্দ্র পন্ডিত, সদর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি পুলক চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক রতন চন্দ্র বিশ্বশর্মা, পৌর সভাপতি ঝন্টু সাহা, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ জেলা সভাপতি সিতাংশু বিকাশ আচার্য ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক সুব্রত রায় মানিক প্রমুখ।
জামায়াতের নেতাদের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা সহকারী সেক্রেটারি দেলোয়ার হোসেন সাইফুল, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জেলা সভাপতি মাওলানা কামাল উদ্দিন, সহসভাপতি এহসানুল হক ভূইয়া হিরো, পৌর জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য এডভোকেট মজিবুর রহমান মিলন প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা ছাদেক আহমাদ হারিছ বলেন, “বিগত সরকার আমাদেরকে মানুষের কাছে যেতে দেয়নি। এখন আমরা দেশবাসীর পাশে থাকতে পারছি। আমরা বিশ্বাস করি, কোন ধার্মিক ব্যক্তি অন্য ধর্মের ক্ষতি করতে পারে না। শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে আমরা হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে থাকবো।”
