নিজস্ব প্রতিবেদক:
দুই হাত-পা বেঁধে রেখেই লালন পালন করতে হয় শিশু আবু তাছিনকে। মাত্র আট বছর বয়সেই শরীরে কঠিন রোগ বহন করে ধীরে ধীরে মৃত্যুপথযাত্রী হতে যাচ্ছে তাছিন।
মানসিক ভারসাম্যহীনতায় আক্রান্ত শিশু তাছিন প্রায়ই নিজের শরীরে নিজেই আঘাত করে তার কোমল দেহ ক্ষতবিক্ষত করে ফেলে। অসহায় বাবা-মা বাধ্য হয়ে তার দুই হাত-পা বেঁধে রাখেন, যাতে সে নিজে নিজে তার শরীরে আর কষ্ট না পায়।
তাছিনের বয়স যখন মাত্র দুই বছর, তখন থেকেই সে অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই আচরনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। দরিদ্রতার কারণে এখন আর চিকিৎসা চালাতে পারছে না তাছিনের পরিবার। যে কারণে রোগটি চরম আকার ধারণ করেছে। দিনরাত বেঁধেই রাখতে হয় তাছিনকে।
তাছিনের বাবা নেত্রকোনার দুর্গাপুর পৌরশহরের দশাল এলাকার রিকশাচালক সুজন মিয়া ও মা গার্মেন্টস কর্মী তাসলিমা বেগম। একমাত্র সন্তান আবু তাছিনের এই অবস্থা দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন অসহায় হত দরিদ্র বাবা- মা। টাকার অভাবে একমাত্র সন্তানের চিকিৎসা করাতে না পেরে ছেলের বেঁচে থাকার আশা ছেড়েই দিয়েছেন তারা।
ডাক্তার বলেছেন, বয়স বাড়ার সাথে সাথে রোগটিও তার শরীরে বাসা বেঁধেছে। তবে নিয়মিত উন্নত চিকিৎসা ও নার্সিং করাতে পারলে তাছিন ভালো হয়ে যাবে।
ইতোমধ্যে তাছিনকে বেঁধে রাখার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। তা নজরে আসে কেন্দ্রীয় বিএনপির আইনবিষয় সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামালের। দলীয় নেতাকর্মীদের দিয়ে খোঁজ নিয়েছেন তাছিনের।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল শিশুটির সম্পূর্ণ চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণের ঘোষণা দেন। এ ব্যাপারে দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন।
এই মানবিক উদ্যোগে স্থানীয় জনগণ ও সামাজিক সংগঠনগুলো ব্যারিস্টার কায়সার কামালের প্রতি কৃতজ্ঞতা পকাশ করেছেন। ব্যারিস্টার কায়সার কামালের এই সহায়তা তাছিনের জীবনে নতুন আলো ফিরে আসুক, অন্যান্য শিশুর মতো তাছিনও মায়ের কোলে ফিরে আসুক এমনটাই আশা করছেন এলাকাবাসী।
ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, একটি শিশু কখনোই শৃঙ্খলিত জীবনে বেঁচে থাকতে পারে না। তাছিন যেন সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে তার সমস্ত চিকিৎসার দায়িত্ব আমি নিচ্ছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।
