তরিকুল ইসলাম, দূর্গাপুর প্রতিনিধি:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৫৭ নম্বর নেত্রকোণা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা চার প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। ভোটের ন্যূনতম শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় নির্বাচন কমিশনের বিধান অনুযায়ী তাঁদের এই জামানত হারাতে হচ্ছে।
জামানত হারানো প্রার্থীরা হলেন— বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি মনোনীত মোঃ আলকাছ উদ্দীন মীর (কাস্তে প্রতীক), জাতীয় পার্টি প্রার্থী আনোয়ার হোসেন খান (লাঙ্গল প্রতীক), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী মোঃ আব্দুল মান্নান সোহাগ (হাতপাখা প্রতীক) এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মোঃ বেলাল হোসেন (তারা প্রতীক)।
নির্বাচন কমিশনের পরিপত্র অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট আসনে প্রদত্ত মোট বৈধ ভোটের আট ভাগের এক ভাগের কম ভোট পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। এই আসনে বৈধ ভোটের সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৫১ হাজার ৪৯৬টি। সে হিসাবে একজন প্রার্থীর জামানত রক্ষায় প্রয়োজন ছিল অন্তত ৩১ হাজার ৪৩৭ ভোট। কিন্তু উল্লিখিত চার প্রার্থী এই নির্ধারিত ভোটসংখ্যার অনেক নিচে অবস্থান করেন।
প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, মোঃ আলকাছ উদ্দিন মীর পেয়েছেন ৪,৩৫৮ ভোট, মোঃ আব্দুল মান্নান সোহাগ পেয়েছেন ২,২০১ ভোট, আনোয়ার হোসেন খান পেয়েছেন ১,০০৭ ভোট এবং ইঞ্জিনিয়ার মোঃ বেলাল হোসেন পেয়েছেন মাত্র ৩৩৪ ভোট। ফলে তাঁদের জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার আফরোজা আফসানা।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, দুর্গাপুর উপজেলার ৬১টি এবং কলমাকান্দা উপজেলার ৬৩টি ভোটকেন্দ্রে মোট ভোটার ছিলেন ৪ লাখ ৫৩ হাজার ৮৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩০ হাজার ২৪৯ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ২২ হাজার ৮৩৬ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৪ জন।
মোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ৫৭ হাজার ৯২১টি। বাতিল হয়েছে ৬ হাজার ৪২৫ ভোট। প্রদত্ত ভোটের হার ছিল ৫৭ দশমিক ৩ শতাংশ, যা এলাকাবাসীর মাঝারি মাত্রার অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দেয়।
উল্লেখ্য, এ আসনে মোট ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে বিএনপি ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীরা প্রয়োজনীয় ভোট পেয়ে তাঁদের জামানত রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছেন। তবে চার প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার ঘটনাটি আসনটিতে রাজনৈতিকভাবে বড় ব্যবধানের চিত্রই তুলে ধরেছে বলে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
