মুহা. জহিরুল ইসলাম অসীম:
নেত্রকোণা-৫ (পূর্বধলা) আসন-এর সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, নেত্রকোণা জেলা শাখার এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অধ্যাপক মাছুম মোস্তফা বলেন— “পরিচ্ছন্নতা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়—এটি প্রত্যেক সচেতন নাগরিকের নৈতিক, সামাজিক ও মানবিক দায়িত্ব। আমরা যদি নিজের ঘর, নিজের উঠান, নিজের রাস্তা পরিষ্কার রাখার অভ্যাস গড়ে তুলি, তাহলে পুরো সমাজই স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচ্ছন্ন হয়ে উঠবে। একটি সুন্দর ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ গড়ে তুলতে হলে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন “আমরা অনেক সময় মনে করি, পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করা শুধু ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা প্রশাসনের কাজ। কিন্তু বাস্তবে সমাজ পরিবর্তন শুরু হয় ব্যক্তি থেকে, পরিবার থেকে, পাড়া-মহল্লা থেকে। আমরা যদি নিজের জায়গা পরিষ্কার রাখি এবং অন্যকে সচেতন করি, তাহলে খুব অল্প সময়েই বড় পরিবর্তন সম্ভব।”
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে পূর্বধলা উপজেলাজুড়ে শতাধিক নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে আয়োজিত পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ গ্রহণ করে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় তিনি আরও বলেন, “পরিচ্ছন্ন পরিবেশ শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়—এটি সুস্থ জীবনের পূর্বশর্ত। পরিবেশ নোংরা থাকলে রোগবালাই বাড়ে, মানুষের জীবনমান নষ্ট হয়। তাই পরিচ্ছন্নতা মানে শুধু ময়লা পরিষ্কার করা নয়, এটি সুস্থ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার আন্দোলন। আমি চাই, আমাদের প্রিয় পূর্বধলা উপজেলা হোক একটি আদর্শ, পরিচ্ছন্ন ও সচেতন জনপদ। এখানকার মানুষ যেন পরিচ্ছন্নতাকে অভ্যাসে পরিণত করে। আমরা সবাই যদি দায়িত্বশীল হই, তাহলে আমাদের এলাকা হবে আরও সুন্দর, নিরাপদ ও বাসযোগ্য।”
“আজকের এই কর্মসূচি শুধু একদিনের জন্য নয়—এটি একটি সচেতনতা আন্দোলনের শুরু। আমি সকলকে আহ্বান জানাই, আমরা যেন নিয়মিতভাবে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখি এবং অন্যদেরও এতে উদ্বুদ্ধ করি। পরিচ্ছন্ন সমাজ গড়ার এই দায়িত্ব আমরা সবাই মিলে পালন করব—এটাই আমাদের অঙ্গীকার।”
তিনি আরও বলেন, মানুষের সচেতন অংশগ্রহণই পারে একটি উন্নত, সুস্থ ও পরিচ্ছন্ন সমাজ গড়ে তুলতে, আর সেই লক্ষ্যেই সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয় নারান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে। এ সময় এমপি মাছুম মোস্তফা নিজ হাতে রাস্তা পরিষ্কার করে কর্মসূচির সূচনা করেন।
অভিযানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোহাম্মদ হুজাইফা, উপজেলা জামায়াতের শুরা সদস্য মাসুদুর রহমান, নারান্দিয়া ইউনিয়ন শাখার আমীর মাওলানা আব্দুল মালেক ও সেক্রেটারি হাফেজ সাইদুল ইসলামসহ জামায়াত ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির-এর বিভিন্ন পর্যায়ের শতাধিক নেতাকর্মী।
স্থানীয়দের মধ্যে এ উদ্যোগ ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের সামাজিক কর্মসূচি জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং পরিচ্ছন্ন সমাজ গঠনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
