কলমাকান্দা প্রতিনিধিঃ
আকস্মিক পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় নেত্রকোনার হাওর অঞ্চলে তলিয়ে যাচ্ছে কৃষকের স্বপ্নের ফসল। এমন দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের নবনিযুক্ত ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং হাওর অঞ্চলের পানিবদ্ধতা নিরসনে বিগত সরকারের অনিয়ম ও দুর্নীতিকে দায়ী করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেলে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার বড়খাপন ইউনিয়নের কাউয়ার বাড়ি খাল ও তৎসংলগ্ন প্লাবিত এলাকা আকস্মিক পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের উদ্দেশ্যে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, “এখানকার জনবসতির একমাত্র উপার্জন হচ্ছে কৃষি। হঠাৎ পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে তাদের জমির ফসল। কেউ হয়তো কিছু ফসল পাবে, কেউ পাবে না- এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা নতুন দায়িত্ব নিয়েছি। আপাতত প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাঁধের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং কৃষকদের জন্য অনুদান দেওয়া হয়েছে। আমি নিজেও একজন কৃষকের সন্তান। কৃষকের সুবিধার্থে এবং তাদের উৎপাদিত ফসল যেন ঘরে তুলতে পারে, তার জন্য যা করণীয় আমরা তা করবো ইনশাআল্লাহ।”
হাওরের করুণ এই অবস্থার জন্য পূর্ববর্তী সরকারের অব্যবস্থাপনাকে কঠোরভাবে সমালোচনা করেন ডেপুটি স্পিকার। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গত ১৫-২৫ বছর ধরে এ অঞ্চলে কোনো নদী বা খাল খনন হয়নি। উল্টো বিভিন্ন জায়গায় বাঁধ দিয়ে বিগত সরকারের দলীয় নেতাকর্মীরা মাছ চাষ করে অর্থ উপার্জন করেছে। নদীর সাথে খালের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছিল। আমরা নতুন বাংলাদেশে এমন অনিয়মের ন্যায়বিচার চাই।”
তিনি আরও জানান, বর্তমান সরকার সারা বাংলাদেশেই খাল ও নদী খননের বৃহৎ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় হাওর অঞ্চলের খালগুলোও খনন করা হবে বলে তিনি কৃষকদের আশ্বস্ত করেন। নেত্রকোনার হাওর অঞ্চলের ৪২ হাজার হেক্টর জমির ফসল বর্তমানে ঝুঁকির মুখে রয়েছে উল্লেখ করে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জরুরি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
তিনি বলেন, “পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অনেক গাফিলতি ও স্বজনপ্রীতি রয়েছে। আমি এখান থেকেই পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, সচিব এবং সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ারদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, তারা যেন অনতিবিলম্বে হাওর অঞ্চলে এসে কৃষকদের সাথে কথা বলে কার্যকর ও স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সরকার যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো একটু সক্রিয় হলেই আমরা সেই দিকে এগিয়ে যেতে পারবো।”
পরিদর্শনকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম, সহকারি কমিশনার (ভূমি) মাহমুদুল হাসান, কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিদ্দিক হোসেন, ডেপুটি স্পিকারের একান্ত সচিব সাইফুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদুর রহমান ভূইয়া, বড়খাপন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম শফিক, কলমাকান্দা প্রেসক্লাব সভাপতি শেখ শামীমসহ স্থানীয় প্রশাসন ও বিএনপি এবং এর অঙ্গ সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।
এসময় সাধারণ কৃষকরা তাদের দুর্দশার কথা ডেপুটি স্পিকারের কাছে তুলে ধরেন।
