জায়েদ হাসান, মোহনগঞ্জ:
চলিত মাসের (এপ্রিল/২৬) প্রথম সপ্তাহে থেকে মোহনগঞ্জ উপজেলার ডিঙ্গাপোতা হাওরের বোরো ধান কাটা পুরোদমে শুরু হয়েছে।অতি বৃষ্টির পানির কারনে জমিতে জলাবদ্ধতা দেখা দেয় যার ফলে উচ্চফলনশীল ধানের গাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। কৃষকদের হার্ভেস্টার দিয়ে ধান কাটা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্যমতে ডিঙ্গুপোতা হাওরের প্রায় অর্ধেকের কাছাকাছি জমির ধান এখনও কাটার বাকি আছে। তারা তার কারন হিসাবে প্রথমত অতিবৃষ্টির পানির কারনে ক্ষেতে জলাবদ্ধতা হয়ে ধানগাছ লুটিয়ে পড়েছে ফলে ধান কাটার মেশিন দিয়ে তা কাটা সম্ভব হচ্ছে না। দ্বিতীয়তে শ্রমিক দিয়ে ধান কাটলেও বেহাল ও ঝুকিপূর্ণ রাস্তার কারনে ধান গন্তব্যস্থলে আনা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
ডিঙ্গুপোতা হাওরের কৃষক মো: রবি উল্লাহ বলেন, আমি ১০০কাটা (প্রতি ১০শতাংশ সমান ১কাটা) জমিতে ব্রি ৮৮ রোপণ করেছি। প্রতি কাটায় আনুমানিক ১০মন ধান হবে। অতিবৃষ্টির পানির কারনে আমার সব ধানের গাছ মাটিতে লুটে যাওয়া ধান কাটার মেশিন দিয়ে ধান কাটতে পারি নাই এমনকি বর্তমানে এত শ্রমিকেও নাই যে যাদের মাধ্যমে আমার ফসল কাটতে পারি।এর চেয়েও বড় সমস্যা হলো খুরশিমূল বাজার হতে মিছিলের মার খলা হয়ে আমার ক্ষেত পর্যন্ত যে মাটির রাস্তার আছে তার এতটাই বেহাল দশা কোন যানবাহন চলে না।
বিপ্লব নামে এক কৃষক বলেন আমার ৫০ কাটা জমিতে বোরোধান রোপণ করেছি।বৃষ্টির পানির কারনে আমার জমির ধান গাছের গোড়া দুর্বল হয়ে ধান গাছ পানির উপরে হেলে পড়ে। ধান কাটার মেশিন দিয়ে তা কাটতে পারি নাই। শ্রমিকেও খুজে পায়নি যাদের দিয়ে ধান কাটব।
মোহনগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, ডিঙ্গাপোতা হাওরে প্রতি বছর সাধারণত ৬ থেকে ৭ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়।হেক্টর প্রতি প্রায় ৬-৭ মেট্রিক টনের বেশি ধান পাওয়া যায়, যা একরে ৫৫ মণ পর্যন্ত হয়।
