প্রিয়া খান:
নেত্রকোণা-কেন্দুয়া-আঠারবাড়ী-ঈশ্বরগঞ্জ মহাসড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় অধিগ্রহণকৃত জমির মূল্য নির্ধারণে অনিয়ম ও বৈষম্যের অভিযোগ তুলে ন্যায্য ক্ষতিপূরণের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছেন পাঁচ শতাধিক ভুক্তভোগী ভূমির মালিক ও এলাকাবাসী।
সোমবার (১৫ জুন) সকালে নেত্রকোণা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে অংশ নেন অধিগ্রহণকৃত জমির মালিক, ব্যবসায়ী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এলএ কেস নম্বর ০৩/২০২১-২০২২ এর আওতায় মহাসড়কের দুই পাশের জমির মূল্য নির্ধারণে প্রকৃত বাজারমূল্য বিবেচনা করা হয়নি। এতে বহু পরিবার তাদের বসতভিটা, কৃষিজমি, দোকানঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হারানোর ঝুঁকিতে পড়লেও ক্ষতিপূরণ হিসেবে যে অর্থ নির্ধারণ করা হয়েছে, তা বর্তমান বাজারদরের তুলনায় অনেক কম।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তাজ উদ্দিন ফারাস সেন্টু, জেলা বিএনপির নেতা সেলিকুর রহমান স্বপন, মো. নাজিম উদ্দিন, সুমন ফারাহ, মো. আল আমিন খান, শাহাদাত হোসেন ও তৈমুর আহমেদসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, সড়ক উন্নয়ন ও অবকাঠামোগত অগ্রগতি অবশ্যই প্রয়োজন। তবে উন্নয়নের নামে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের অধিকার উপেক্ষা করা গ্রহণযোগ্য নয়। তারা দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে বাজার ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসা অনেক জমিকে বাড়ি বা আবাসিক শ্রেণী হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়েছে, যার ফলে প্রকৃত মালিকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অধিগ্রহণকৃত এলাকার বিভিন্ন স্থানে বহু বছর ধরে দোকানপাট, ধান-চালের আড়ত, গুদাম, মিল ও অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয়ে আসছে। এমনকি সরকারি রেকর্ডেও অনেক ভূমি দোকান বা বাণিজ্যিক শ্রেণী হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। তারপরও এসব জমির মূল্য নির্ধারণে বাণিজ্যিক গুরুত্ব যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা আরও বলেন, বসতঘর, পুকুর, ভিটা ও ব্যবসাকেন্দ্রের যথাযথ মূল্যায়ন না হওয়ায় বহু পরিবার ভবিষ্যতে চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়তে পারে। শুধু আবাসন নয়, জীবিকার প্রধান উৎস হারানোর আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে।
স্মারকলিপিতে ভূমির শ্রেণী পুনর্মূল্যায়ন, বর্তমান বাজারদরের ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর স্বার্থ সংরক্ষণে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে বাজার ও বাণিজ্যিক এলাকাগুলোকে যথাযথ শ্রেণীতে অন্তর্ভুক্ত করে পুনরায় মূল্য নির্ধারণের আহ্বান জানান ভুক্তভোগীরা।
কর্মসূচি শেষে অংশগ্রহণকারীরা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের দাবি পৌঁছে দেন এবং দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
মানববন্ধনে উপস্থিত ভুক্তভোগীদের কণ্ঠে একটি বিষয়ই ছিল স্পষ্ট—উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ন্যায্য অধিকার ও প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে। উন্নয়নের মহাসড়কে যেন সাধারণ মানুষের স্বার্থ ও ন্যায়বিচার উপেক্ষিত না হয়, সে আহ্বানই ছিল তাদের কর্মসূচির মূল প্রতিপাদ্য।
