জায়েদ হাসান:
তীব্র গরমের মধ্যে ঘনঘন লোডশেডিং এবং ভোল্টেজ ওঠানামার (ভেলকিবাজি) কারণে নেত্রকোনা মোহনগঞ্জ উপজেলার সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা চরমভাবে বিপর্যস্ত।
সরেজমিনে পর্যালোচনা করে দেখা যায়, চাহিদার তুলনায় অপর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ, ত্রুটিপূর্ণ সঞ্চালন ব্যবস্থা এবং ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার এই খামখেয়ালিতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, শিশু, বয়স্ক ও দ্বীন মজুর। বিশেষ করে হাসপাতালে ভর্তিরত রোগীদের অবস্থা একেবারেই নাজেহাল। গত কয়েক মাস যাবৎ এভাবেই চলছে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা।
মোহনগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা যায়, মোহনগঞ্জ জোন অফিসের আওতাধীন প্রায় ৫৩ হাজার গ্রাহকের জন্য মোহনগঞ্জ জোনাল অফিসের আওতাধীন এলাকাগুলোর জন্য বিদ্যুতের নির্ধারিত ও চাহিদাভিত্তিক বরাদ্দ সাধারণত ১৬ মেগাওয়াট। তবে জাতীয় গ্রিড থেকে প্রায়ই এর অর্ধেকের কম, অর্থাৎ ৭ থেকে ৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যায। ৭টি ফিডার চালাতে ১৫-১৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন। কিন্তু মোহনগঞ্জ জোনাল অফিস বিদ্যুৎ পায় মাত্র ৬-৭ মেগাওয়াট। গত দু’তিন দিন যাবৎ মাত্র ৪-৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাচ্ছে মোহনগঞ্জ জোনাল অফিস। এই বিদ্যুৎ দিয়ে ৭টি ফিডার চালানো সম্ভব নয়, মাত্র ৩-৪টি ফিডার চালানো যায়। বাকী ফিডারগুলো বন্ধ রাখতে হয়। মূলতঃ এ কারণেই ঘনঘন লোডশেডিং দেখা দিচ্ছে। এ ছাড়াও পর্যপ্ত কর্মীর অভাবে ত্রুটিপূর্ণ লাইন সংস্কার কাজে ধীরগতিতে হচ্ছে যার ফলে অনেক অঞ্চলে সংযোগ অফ রাখতে হয়।
মোহনগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তিরত হালিমা আক্তার সহ কয়েকজন রোগী জানায়, দু’তিন দিন যাবৎ আমরা মোহনগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি আছি। প্রচন্ড গরমে রোগীদের অবস্থা নাজেহাল। আধা ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকলে, বাকী দুই-তিন ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকে না। বিশেষ করে রাতের বেলায় বিদ্যুৎ থাকেই না। তাপমাত্রা যত বাড়ে লোডশেডিং তত বেশি হয়।
জুয়েল রানা নামক এক গ্রাহক জানান, ২৪ ঘন্টার মধ্যে গড়ে ৪-৫ ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকে এই তীব্র গরমে আমরা চরম কষ্টে আছি।আমার মিটারে এ মাসে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ বিল আসছে যা গত তিন মাসের সমান।বিদুৎও থাকেনা আবার বাড়তি বিলেও গুণতে হচ্ছে এ যেন মরার উপর কাড়ার ঘা।
ছাত্র অভিভাবক স্বপ্না আক্তার জানান, সন্ধ্যায় বিদুৎ থাকে না। প্রচন্ড গরমে বাচ্চারা পড়তে বসতে চায় না। এতে লেখাপড়ার ভীষণ ক্ষতি হচ্ছে। এছাড়াও ফ্রিজের মাছ-মাংস নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
কাজী অফিস মোড়ের কম্পিউটার ব্যবসায়ী উভায়দুল্লাহ জানান, বিদ্যুৎ না থাকলে কম্পিউটারে কাজ করা যায় না। এটা প্রতিনিয়ত হচ্ছে। মানুষ বিভিন্ন সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
মোহনগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম মোঃ এমদাদুল হক জানান, আমার আওতাধীন অঞ্চলের জন্য বিদ্যুৎ এর চাহিদা প্রতিদিন ১৬ মেগাওয়াট কিন্তু গড়ে ৬-৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাচ্ছি যা চাহিদার তুলনায় অনেক কম যার কারণে লোডশেডিং হচ্ছে। আশা করছি স্বল্প সময়ের মধ্যেই সব স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
