কেন্দুয়া প্রতিনিধি :
২০২৪ সালের জুলাই—বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতির এক উত্তাল সময়। রাজধানী থেকে শুরু হওয়া কোটা সংস্কার আন্দোলনের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে দেশের নানা প্রান্তে। কিন্তু প্রান্তিক অঞ্চলগুলোর বেশিরভাগই তখন নিশ্চুপ। সেই নীরবতা ভেঙেছিলেন কেন্দুয়ার সাহসী তরুণ মো. দিলশাদ নাসিম প্লাবন।
১৬ জুলাই ২০২৪ দুপুর আড়াইটার দিকে কেন্দুয়া সরকারি কলেজ চত্বর থেকে প্রায় ৪০–৫০ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে একটি ছাত্র মিছিল বের হয়। নেতৃত্বে ছিলেন কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ও ছাত্রদল কর্মী প্লাবন। মিছিলে স্লোগান ধ্বনিত হচ্ছিল—“কোটা না মেধা, মেধা মেধা”, “আমার ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না”, “একশান, একশান, ডাইরেক্ট একশান।”
এটি ছিল সে সময় কেন্দুয়া উপজেলায় হওয়া একমাত্র প্রকাশ্য ছাত্র মিছিল। কেন্দ্রীয় কোনো নির্দেশনা বা সংগঠনের সহায়তা ছাড়াই, প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই—কেবল শিক্ষার্থীদের অধিকারের পক্ষে দাঁড়িয়ে প্লাবন সংগঠিত করেছিলেন এই প্রতিবাদ।
মিছিলটি যখন কেন্দুয়া বাজার এলাকায় পৌঁছায়, তখন স্থানীয় এক সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও তার অনুসারীরা বাধা দেয়। শুরু হয় ধাক্কাধাক্কি, হামলার শিকার হন প্লাবনসহ অন্যরা। মিছিল ছত্রভঙ্গ হলেও কেউ পালাননি; দৃঢ় অবস্থানে লড়াই চালিয়ে যান তারা।
এরপর প্লাবন নানা হুমকি ও হয়রানির মুখে পড়েন—অচেনা নম্বর থেকে ফোন, পুলিশের নজরদারি, সামাজিক চাপ। কিন্তু তাতে তিনি দমে যাননি। সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় থেকে শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে কাজ চালিয়ে গেছেন অবিরত।
এক বছর পর, ২০২৫ সালের এই দিনে, অনেকেই হয়তো সেই মিছিল ভুলে গেছে। কিন্তু যারা তখন উপস্থিত ছিলেন, তারা আজও বলেন—প্রান্তিক ছাত্র রাজনীতিতে সাহসী প্রতিবাদের আরেক নাম প্লাবন।
প্লাবন বলেন, “আমার লক্ষ্য এমন এক পরিবেশ গড়ে তোলা, যেখানে গ্রামের শিক্ষার্থীরাও শহরের শিক্ষার্থীদের মতো সমান সুযোগ পাবে। ছাত্র রাজনীতির প্ল্যাটফর্ম থেকে সমাজ ও দেশের জন্য কাজ করে যেতে চাই।”
তার বন্ধুরা জানান, মিছিলের পর নানা হুমকির শিকার হলেও প্লাবন আজও কেন্দুয়ার তরুণদের মাঝে মানবিক শিক্ষা ও রাজনৈতিক সচেতনতার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছেন। এই বয়সে সে দরিদ্র পরিবারের এক সন্তানের কেন্দুয়া সরকারি কলেজে লেখাপড়ার দায়িত্ব নিয়ে সাহসী এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে জানান তারা।
