নেত্রকোনা প্রতিনিধি:
নেত্রকোনায় জেএমবি’র বোমা হামলায় নিহতদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা আর গণজাগরণের মধ্য দিয়ে সন্ত্রাসী ও জঙ্গীবাদী কর্মকান্ড নির্মূলের দীপ্ত অঙ্গীকারে আজ সোমবার ট্র্যাজেডি দিবস পালিত হয়েছে। এসময় ‘তিন মিনিট থেমে ছিল নেত্রকোনা’ জেলা শহর।
২০০৫ সালের এই দিন সকালে জেএমবি নামধারী আত্মঘাতী জঙ্গীরা উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর নেত্রকোনা জেলা সংসদ কার্যালয়ে নারকীয় বোমা হামলা চালায়।
এতে মারা যায় নেত্রকোনা জেলা উদীচী জেলা সংসদের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক খাজা হায়দার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সুদীপ্তা পাল শেলি, মোটরসাইকেল মেকানিকস যাদব দাস, পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী রানী আক্তার, মাছ বিক্রেতা আফতাব উদ্দিন, শ্রমিক রইছ মিয়া, ভিক্ষুক জয়নাল ও আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী আল বাকি মো. কাফিসহ আটজন। এ সময় আহত হন অর্ধশতাধিক।
শহীদদের স্মরণে নানা কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিল সকাল ৯টা ১০ মিনিটে কালো পতাকা উত্তোলন ও কালো ব্যাজ ধারণ, উদীচী ট্রাজেডি স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ৯টা ৩০ মিনিটে স্মৃতিচারণ ও গণসংগীত, ১০টা ৪০ মিনিট থেকে ৩ মিনিট স্তব্ধ ছিল।
নেত্রকোনার সকল স্তরের মানুষ রাস্তায় দাঁড়িয়ে তিন মিনিট নীরবতা পালন করে। এ সময় জেলা শহরের বিভিন্ন সড়কে চলাচলরত সকল প্রকার যানবাহন তিন মিনিটের জন্য থমকে দাঁড়ায়।
পরে শহীদদের কবর জিয়ারত, শ্মশানের স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শহীদদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা হয়। উদীচী, সিপিবি, শতদল সাংস্কৃতিক একাডেমি, রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ, প্রত্যাশা সাহিত্য গোষ্ঠীসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা এসব কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
নেত্রকোনা উদীচী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২০০৫ সালের ৯ ডিসেম্বর নেত্রকোনা হানাদারমুক্ত দিবস উপলক্ষে আজকের এই দিনে সকালে জেলা শহরের অজহর রোড এলাকায় উদীচী কার্যালয়ের সামনে উদীচীর মহড়ার প্রস্তুতি চলছিল। এ সময় শিল্পীরা জানতে পারেন উদীচী ও সংলগ্ন শতদল নামের অপর সাংস্কৃতিক সংগঠনের ভবনের পাশে একটি কসস্টেপ জড়ানো কৌটা এবং একটি হাতের লেখা চিঠি রয়েছে।
খবর পেয়ে প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের লোকজন এসে বোমাটি নিস্ক্রিয় করে। এই অবস্থায় সেখানে প্রশাসনের কর্মকর্তা, শিল্পীসহ স্থানীয় উৎসুক জনতার জটলা বাধে। এ সময় আত্মঘাতী এক বোমা হামলাকারী সাইকেলে করে এসে আরেকটি বোমার বিষ্ফোরণ ঘটায়।
