জায়েদ হাসান, মোহনগঞ্জ:
নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও একটা পৌরসভা রয়েছে। এ অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ ডিঙ্গুপুতা হাওরের ধান উৎপাদন করে জীবিকা নির্বাহ করার পাশাপাশি বাড়তি ধান বিক্রি করে অর্থ উপর্জন করে থাকে।
এ ফসল দেশের বিভিন্না জায়গায় রপ্তানি হয় যা দেশে খ্যাদ্যের চাহিদা মিটে। মোহনগঞ্জ থেকে গাগলাজুর এ সড়কে হাজার হাজার টন বোরোধান উপজেলা শহরে বাজারজাতের জন্য নিয়ে আসা হয়।
একদিকে ভারি বৃষ্টিপাতের কারনে ফলস তলিয়ে যাচ্ছে অন্যদিকে যা সংগ্রহ করতে পারছে তা শুধু রাস্তার কারনে বাজারে নিতে পারছে না যার ফলে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল বাজারজাতকরনে মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এ উপজেলার হাওর অঞ্চলের সাথে প্রধান সংযোগ সড়ক তেতুলিয়া টু গাগলাজুর সাবমার্জড রোডে’র বর্তমান শোচনীয় রূপ , গা শিউরে ওঠার মতো। ধান পরিবহনের গাড়ি এমনভাবে কাদায় আটকে যায় যে ধান আনলোড করে গাড়ি নিতে হয়। যেখানে প্রায় ১০০মন ধান উপজেলা শহরে নেওয়া যেত শুধু রাস্তার কারনে মাত্র ২০মন নেওয়া যায় তাও প্রায় জায়গায় গাড়ি আটকে যায়।
এমনিতেই বৃষ্টিতে হাওরের বহু জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। কর্দমাক্ত রাস্তাঘাটের কারণে ধান কাটার মেশিন ধান কাটতে পারছে না। যা কিছু ধান নিতে পারছে এই রাস্তার জন্যে ধান পরিবহন করা যাচ্ছে না। রাস্তা নষ্ট থাকায় ধানের মূল্যও পাচ্ছে না। ধান উৎপাদন খরচ ,ধান কাটা , মাড়াই ,পরিবহন খরচের পর কৃষকের হাতে আর কিছুই থাকছে না।
তেতুলিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মেম্বার মো: বজলু মিয়া বলেন, তেতুলিয়া থেকে গাগলাজুর যাওয়ার রাস্তাটি ঝুকিপূর্ণ। যার কারনে সাধারণ কৃষক তাদের উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে খুব কষ্ট হচ্ছে। টীকাদার বলেছিল ১ম বার ঢালাই দেওয়ার পর আবার ঢালাই করা হবে কিন্তু ২য় বারের কাজ এখনও করা হয়নি।
স্থানীয় শিক্ষানুরাগী মো: সোহাগ মিয়া বলেন এসব দেখার “কোথাও কেউ নেই!” এই সড়কটি নিয়ে একটি কেইস স্টাডি করলে বেরিয়ে আসবে প্রাগৈতিহাসিক বর্বর দস্যুদের লুন্ঠন কাহিনির মতো ভয়াবহ জালিয়াতির এক নগ্ন ইতিহাস। এ রাস্তার পাকা এত দুর্বল করেছে যে সাধারণ বৃষ্টিতে পানিতে মিশে গেছে এখন পাকার কোন নিদর্শন এ রাস্তায় নেই বললেই চলে।
উপজেলার প্রকৌশলী মো: একরামুল হক এ রাস্তা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন– তেতুলিয়া থেকে গাগলাজুর পর্যন্ত রাস্তার জন্য সম্ভবত ২০কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। ময়মনসিংহ বিভাগের শ্যামগঞ্জের টীকাকার মো: ওয়াসিমের তত্ত্বাবধানে আনুমানিক ৯০০মিটার রাস্তা পাকা করা হয় যার মধ্যে ৬০০মিটার রাস্তা এখনও ভাল আছে অবশিষ্ট ৩০০মিটার রাস্তায় পাকাকরণের মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যে কৃষকরা ধানভর্তি বিভিন্ন যানবাহন নেওয়ার কারনে রাস্তাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।এর মধ্যে অতিবৃষ্টির হওয়ার রাস্তাটি ঝুকিপূর্ণ হয় এখন রাস্তা সম্পূর্ণ যাতায়াতের অনুপযোগী।
