প্রিয়া খান:
বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশে তরুণ প্রজন্মকে উৎসাহিত করতে নেত্রকোণায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ কর্মসূচি।
জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ প্রদর্শনী প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।
রবিবার (তারিখ) দুপুরে জেলা প্রশাসন ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ উদ্যোগে শহরের দত্ত উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ আয়োজনের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী চিন্তা, বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা, প্রযুক্তিনির্ভর প্রকল্প এবং সম্ভাবনাময় স্টার্টআপ ধারণা উপস্থাপন করে দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর কবীর আহাম্মদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার মুশফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. নুরুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মুনমুন জাহান লিজা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুল ইসলাম এবং জেলা প্রেসক্লাবের সম্পাদক ম. কিবরিয়া চৌধুরী হেলিম।
বক্তারা বলেন, বর্তমান বিশ্ব চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে প্রবেশ করেছে। এ সময়ে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্কতা, উদ্ভাবনী দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জনের কোনো বিকল্প নেই। নতুন নতুন ধারণা, গবেষণা ও সৃজনশীল উদ্ভাবনের মাধ্যমে তরুণরাই আগামী দিনের স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
তারা আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধিৎসা ও সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা তৈরিতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত কার্যকর। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রতিভা প্রকাশের সুযোগ পাওয়ার পাশাপাশি বাস্তব জীবনের সমস্যার উদ্ভাবনী সমাধান খুঁজে বের করার অনুপ্রেরণা লাভ করে।
দিনব্যাপী প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন প্রকল্পের মধ্যে বিচারকদের মূল্যায়নে বাউসী অর্ধচন্দ্র উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রথম স্থান অর্জন করে। দ্বিতীয় স্থান লাভ করে নেত্রকোণা সরকারি কলেজ এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করে কলমাকান্দা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়।
অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ীদের হাতে ক্রেস্ট, সনদপত্র ও পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। আয়োজকরা জানান, বিজ্ঞানমনস্ক, উদ্ভাবনী ও দক্ষ প্রজন্ম গড়ে তুলতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে আয়োজন করা হবে।
শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, ব্যতিক্রমী উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিনির্ভর চিন্তার সমন্বয়ে আয়োজিত এ শোকেসিং কর্মসূচি নেত্রকোণার শিক্ষা অঙ্গনে নতুন সম্ভাবনার বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে।
