জায়েদ হাসান
নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ উপজেলার আদর্শনগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র থেকে সরকারের অভিযানে জব্দ করা চারটি মাছ ধরার জাল একদল জেলে জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ইতোমধ্যে অভিযান চালিয়ে ছিনিয়ে নেওয়া জালগুলোর মধ্যে একটি উদ্ধার করা হয়েছে।
আদর্শনগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ রাসেল পারভেজ জানান, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী গত ১২ জুলাই ডিঙ্গাপোতা হাওরে অভিযান পরিচালনা করে অবৈধভাবে ব্যবহৃত চারটি বড় মাছ ধরার জাল জব্দ করা হয়। পরে জালগুলো পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে নিয়ে রাখা হয়।
তিনি বলেন, রোববার বিকেল প্রায় ৫টার দিকে আদর্শনগর বাজার এলাকা থেকে শতাধিক জেলে এবং জলপথে নৌকাযোগে আরও ৭০-৮০ জন জেলে তদন্ত কেন্দ্রে এসে জোরপূর্বক জালগুলো নিয়ে যায়। তাদের বোঝানোর চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো কথা শুনতে রাজি হননি। পুলিশের দাবি, পুটিউগা গ্রামের শামসুদ্দিন তালুকদারের ছেলে জুয়েলের নেতৃত্বে এ ঘটনা ঘটে। তদন্ত কেন্দ্রে থাকা ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তের কাজ চলছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে জেলেদের দাবি, ডিঙ্গাপোতা হাওরে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা গত ২৮ জুন পর্যন্ত ছিল এবং তারা সরকারি নির্দেশনা মেনেই ওই সময় মাছ ধরা বন্ধ রেখেছিলেন। তাদের ভাষ্য, স্বাধীনতার পর এ মৌসুমে কখনও হাওরে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা ছিল না। বর্তমানে মাছ ধরার মৌসুমে হাওরে যেতে না পারলে শত শত জেলে পরিবার চরম আর্থিক সংকটে পড়বে। অনেকেই এনজিও কিংবা সুদে টাকা নিয়ে জাল কিনেছেন। তবে আদর্শনগর তদন্ত কেন্দ্র থেকে জাল নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তারা।
এদিকে মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুনের নেতৃত্বে সোমবার হাওরে অভিযান চালিয়ে ছিনিয়ে নেওয়া জালগুলোর মধ্যে একটি উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
